জোড়া মৃতদেহ টপকে তড়িঘড়ি দাহ, আর জি কর কাণ্ডের কিনারা করতে শ্মশানে সিবিআই!

জোড়া মৃতদেহ টপকে তড়িঘড়ি দাহ, আর জি কর কাণ্ডের কিনারা করতে শ্মশানে সিবিআই!

রাজ্যে পালাবদলের পর আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকারের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে এবার উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটি শ্মশানে অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। বুধবার সকালে শ্মশানে পৌঁছে আধিকারিকরা সেদিনের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করেন।

তড়িঘড়ি সৎকারের নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ

মৃতার পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ঘটনার পর ময়নাতদন্ত শেষ হতেই প্রবল চাপ সৃষ্টি করে মৃতদেহ জলহাটি শ্মশানে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই কাজে তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ওরফে ‘জলহাটির কাকু’-র বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ওঠে। সেদিন শ্মশান চত্বর কার্যত ঘিরে রেখেছিলেন শাসকদলের কর্মীরা। বুধবার সিবিআই আধিকারিকরা শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্রকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জানান, সেদিন রাতে শ্মশানে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল এবং লাইনে থাকা অন্য দুটি মৃতদেহকে টপকে তড়িঘড়ি নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়।

তদন্তের নতুন মোড় ও সম্ভাব্য প্রভাব

সম্প্রতি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মৃতার পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরেই সিবিআইয়ের এই তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার রাতে শ্মশানে ঠিক কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন করা গেলে, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এই তদন্তের ফলে প্রভাবশালী নেতাদের ভূমিকা যেমন প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনই এই জঘন্য অপরাধের পেছনের আসল চক্রীদের আইনি শাস্তির আওতায় আনা সহজ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *