রেশনে উন্নতমানের চালের প্রতিশ্রুতি, ঘোষণার পরেই চরম বিপাকে ডিলাররা!

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীর ‘উন্নতমানের চাল’ বিতরণের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঘোর বিপাকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রেশন ডিলাররা। আগামী জুন মাস থেকে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও উন্নতমানের চাল বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। এই ঘোষণায় গ্রাহকদের মধ্যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হলেও, ডিলারদের কাছে পৌঁছানো চালের গুণগত মান নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় খাদ্য দফতরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিয়েছে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন।
ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক
খাদ্যমন্ত্রী সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, জুন মাস থেকে রেশন গ্রাহকদের কেজি প্রতি ৪১.৬৭ টাকা বাজারমূল্যের উন্নতমানের চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। কিন্তু ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে জুন মাসের জন্য যে চাল রেশন দোকানগুলিতে সরবরাহ করা হয়েছে, তার গুণমান আগের তুলনায় বিশেষ উন্নত নয়। সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির এই ব্যাপক অমিলই বর্তমানে ডিলারদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অশান্তির আশঙ্কা ও ডিলারদের দাবি
সাধারণ মানুষ উন্নতমানের চালের প্রত্যাশা নিয়ে রেশন দোকানে এলে এবং তা না পেলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ডিলাররা। চালের গুণমান নির্ধারণে ডিলারদের কোনও ভূমিকা না থাকলেও, তাঁদেরকেই গ্রাহকদের সরাসরি রোষের মুখে পড়তে হবে। এই অনভিপ্রেত বিক্ষোভ ও গোলযোগ এড়াতে সংগঠন খাদ্য দফতরের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চালের নমুনা পরীক্ষা করে তা লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা এবং সাধারণ মানুষকে প্রকৃত তথ্য জানাতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা। সম্ভাব্য জটিলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছেও এই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।