বিধানসভা ভোটে হারের পরই পদত্যাগ! তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি পদ ছাড়লেন রবীন্দ্রনাথ

পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ নেতা তথা কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে ইমেল মারফত তিনি নিজের পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়েছেন। সত্তরোর্ধ্ব এই নেতা চিঠিতে মূলত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে তাঁর ইস্তফাপত্রটি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও গ্রহণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অসুস্থতা নাকি অন্য রাজনৈতিক কারণ?
২০২১ সাল থেকে টানা তিন বার পূর্ব বর্ধমানের জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূলের টিকিটে টানা ছ’বারের বিধায়ক হিসেবে এলাকায় তাঁর যথেষ্ট দাপট ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাটোয়া কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষের কাছে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনী এই ভরাডুবির পরেই তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রকাশ্যে শারীরিক কারণের কথা বলা হলেও, এই ইস্তফার নেপথ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ বা অভিমান লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলের অন্দরে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ জল্পনা
রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন বর্ষীয়ান নেতার পদত্যাগ পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে ভাঙন ও অস্থিরতা প্রকট হয়েছে। একদিকে পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে ফাটল, অন্যদিকে একাধিক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ ও গ্রেফতারির ঘটনায় দল এমনিতেই চাপে রয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার ঘটনা দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল আরও কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী দিনে পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলের হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ঘনীভূত হচ্ছে।