জুনে অন্নপূর্ণার ফর্ম পূরণ করলেও চিন্তার কারণ নেই, টাকা পাওয়ার দিনক্ষণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

জুনে অন্নপূর্ণার ফর্ম পূরণ করলেও চিন্তার কারণ নেই, টাকা পাওয়ার দিনক্ষণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি মতো চলতি মাস থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেতে শুরু করেছেন বহু উপভোক্তা। তবে জুন মাসে আবেদন করা সত্ত্বেও এখনও অনেক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা এসে পৌঁছায়নি। এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে, নতুন করে ফর্ম পূরণ করা সত্ত্বেও কি তবে টাকা মিলবে না? উপভোক্তাদের এই দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুখবর দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতার এক জনকল্যাণ শিবিরে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ১ জুলাই থেকেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে জুন মাসের টাকা ঢুকতে শুরু করবে।

টাকা পেতে কেন হচ্ছে বিলম্ব

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত সরকারের আমলে পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর কিংবা কৃষ্ণনগরের মতো একাধিক এলাকায় মহিলাদের হকের টাকা জালিয়াতি করে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যার তদন্ত করছে সিআইডি। এই ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি রুখতেই এবার প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে সরকারি অর্থ পৌঁছে দেওয়াই এই কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার মূল কারণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ কোটি ৫ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ইতিমধ্যে ২৮ লক্ষ মহিলা ৩ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। বাকিদের তথ্য যাচাইয়ের পর পোর্টালে নাম তোলার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

কারা পাবেন এই আর্থিক সুবিধা

নতুন নিয়মে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে পরিবারের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্যের পাশাপাশি সন্তান কোন স্কুলে পড়াশোনা করে, তাও উল্লেখ করতে হচ্ছে। এই নিয়মের জেরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা পরিষ্কার করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব আবেদনকারীর সন্তানরা সরকারি বা সরকার পোষিত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, তাঁরা প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, সন্তান যদি বেসরকারি স্কুলে পড়ে, তবে সেই স্কুলটি সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত হলেই কেবল মায়েরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন; অন্যথায় এই সুবিধা মিলবে না। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন ভুয়ো আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনই প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য মহিলারা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান পেয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *