কোটি কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগ! খাঁচাবন্দি উদয়ন গুহকে ‘বিড়াল’ বলে তীব্র কটাক্ষ নিশীথের

কলকাতার ফুলবাগানের ফ্ল্যাট থেকে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহ। দিনহাটার ‘শিশু মঙ্গল সমিতি’ নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তৃণমূলের এই ডাকসাইটে নেতার গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদয়ন গুহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তাঁর রাজনৈতিক ‘চিরশত্রু’ তথা বর্তমান কেন্দ্রীয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ও গ্রেপ্তার
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, দিনহাটার ‘শিশু মঙ্গল সমিতি’ নামের একটি সংস্থার সম্পাদক পদে রয়েছেন উদয়ন গুহ। অভিযোগ, বছর দুয়েক আগে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের শিশু বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ওই সমিতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা তোলা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তছরুপ করা হয়। এই আর্থিক অনিয়ম ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে দিনহাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।
বাবাকে ‘চোর’ বলার প্রসঙ্গ টেনে নিশীথের তোপ
উদয়ন গুহের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কোচবিহারের বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক। অতীতে তৃণমূলের দুর্নীতি ও নিয়োগ কেলেঙ্কারির অভিযোগ আড়াল করতে গিয়ে উদয়ন গুহ তাঁর নিজের বাবা, প্রয়াত ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা প্রাক্তন বাম মন্ত্রী কমল গুহকে ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “নিজের বাবাকে যিনি বারবার চোর বলে পরিচয় দিতেন, আজ তিনিই গ্রেপ্তার হলেন। সময় থেমে থাকে না।” দিনহাটার মানুষের ওপর উদয়ন গুহ অত্যাচার চালাতেন বলে অভিযোগ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আজ সেই ‘বাঘ’ বিড়াল হয়ে খাঁচাবন্দি।”
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
কোচবিহারের রাজনীতিতে নিশীথ প্রামাণিক ও উদয়ন গুহের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এই গ্রেপ্তারির পর নিশীথ অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানায় বহু বিজেপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে উদয়ন গুহ সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। এই গ্রেপ্তারিকে ‘কর্মফল’ হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, এটি কেবল শুরু এবং এর পর তাঁর সহযোগীদেরও সময় ঘনিয়ে আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারির ফলে ওই অঞ্চলে শাসক দলের রাজনৈতিক অবস্থান বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে এবং এর প্রভাব আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে।