দেশ ছাড়ার আশঙ্কায় অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে সিআইডির লুকআউট নোটিস!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব তথা আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিল রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তর (সিআইডি)। জমি জালিয়াতি ও তোলাবাজির একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত সুমিতের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে ‘লুকআউট নোটিস’। মেদিনীপুর আদালত ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সুমিত রায় যাতে কোনোভাবেই আইনি জটিলতা এড়াতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য প্রশাসনের এই জরুরি তৎপরতা।
দেশ ছাড়ার আশঙ্কা ও সীমান্তে সতর্কতা
তদন্তকারীদের প্রবল আশঙ্কা, গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে সুমিত রায় জল কিংবা আকাশপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন। এই কারণে অভিবাসন দপ্তরের সহযোগিতায় দেশের সমস্ত বিমানবন্দর ও বন্দরে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। সিআইডি ও পুলিশ যৌথভাবে তাঁর খোঁজে কলকাতার কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনসহ একাধিক গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালালেও এখনও তাঁর কোনো হদিস মেলেনি। বর্তমানে পলাতক সুমিত রায় অন্তরালে থেকেই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন।
তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
গোয়েন্দাদের দাবি, এই কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি চক্রের শিকড় অনেক গভীরে ছড়ানো। সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে এই চক্রের পেছনে থাকা আসল চাঁই বা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের নাম সামনে আসতে পারে। ফলে এই মামলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতি এবং রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। এই তদন্তের সূত্র ধরে আগামী দিনে আরও বড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি বা প্রভাবশালী কারও নাম জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।