১৫ বছরের স্তব্ধতা ভেঙে দুই মাসেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন! মমতার পাশ কেটে শুভেন্দুর পথেই হাঁটছেন রচনা?

১৫ বছরের স্তব্ধতা ভেঙে দুই মাসেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন! মমতার পাশ কেটে শুভেন্দুর পথেই হাঁটছেন রচনা?

বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের পর এবার সম্পূর্ণ খোলস ছেড়ে স্বমূর্তি ধারণ করলেন হুগলির সাংসদ তথা টলিউড অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এত দিন যা ছিল নেপথ্যের গুঞ্জন, এবার তা প্রকাশ্যে এনে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শুরু করেছেন তিনি। সদ্য গঠিত এনসিপিআই (NCPI) দলে যোগ দেওয়ার পর ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর মুখে এখন শোনা যাচ্ছে একদা বিজেপির তোলা সেই চেনা স্লোগান, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’। কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকলে যে উন্নয়নের কাজ অনেক সহজ হয়, একসময়ের কট্টর বিরোধিতা ভুলে এখন সেই তত্ত্বেই সিলমোহর দিচ্ছেন হুগলির সাংসদ।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহভাজন হিসেবে দেখা যেত। তবে রাজ্যে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর সমস্ত সমীকরণ রাতারাতি বদলে গেছে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছাড়েন এবং এনসিপিআই-তে যোগ দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রাখলেও দলগতভাবে কাজের ক্ষেত্রে পদে পদে বাধা পাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

কাজের বাধা বনাম ডবল ইঞ্জিন তত্ত্বের প্রভাব

তৃণমূল ছাড়ার পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেন যে, মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও পূর্ববর্তী দলে তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় এতদিন সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল। তাঁর মতে, কেন্দ্রে যে দল ক্ষমতায় রয়েছে, রাজ্যেও সেই শক্তির উপস্থিতি থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা কমে এবং কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। বিগত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেই বাধা দূর হয়েছে।

দ্রুত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার পর বাংলার পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, তার খতিয়ান দিতে গিয়ে বর্তমান প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রচনা। তিনি দাবি করেন, গত এক-দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গে যে অভূতপূর্ব ও দ্রুত গতিতে উন্নয়ন হয়েছে, তা বিগত ১৫ বছরেও দেখা যায়নি। এই প্রশাসনিক গতিশীলতার কারণে সাধারণ মানুষ এখন আসল উন্নয়নের মুখ দেখতে শুরু করেছে। এই রাজনৈতিক দলবদল এবং রচনার মতো প্রভাবশালী নেত্রীদের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের শাসক শিবিরে যেমন বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে, তেমনই আসন্ন দিনগুলোতে বাংলার রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *