অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তৃণমূল ছাড়লেন প্রদীপ সরকার, মেদিনীপুরে তীব্র চাঞ্চল্য!

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভাঙন দেখা দিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রদবদলের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন খড়গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। গত মঙ্গলবারই তাঁকে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বুধবার তিনি সেই পদ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ দর্শালেও, পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একঝাঁক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। ইস্তফা দেওয়ার পরপরই খড়গপুরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় নিজের কার্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি সরিয়ে দেন এই নেতা, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
পদত্যাগ ও ক্ষোভের নেপথ্য কারণ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদীপ সরকার স্পষ্ট জানান যে, তাঁর এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত কারণে নয়। ২০২২ সালে দলীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে খড়গপুর পুরসভার পুরপ্রধানের পদ থেকে সরানো হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এই অপসারণের বিষয়টি সম্পর্কে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবগত ছিলেন না এবং আজ পর্যন্ত তাঁকে সরানোর কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে মেদিনীপুর এলাকায় দলের পরাজয়ের নেপথ্যে তৃণমূলেরই একাংশের অন্তর্ঘাত ছিল বলে তিনি মনে করেন। নিজের দলের অন্দরেই বারবার বাধার মুখে পড়তে হওয়ার কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রদীপ সরকারের এই আচমকা দলত্যাগ মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্যে বড় ধাক্কা দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দল ছাড়ার পরই তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়গপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রশংসা করেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তিনি এখনই অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেননি। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি মেদিনীপুরের বর্তমান সাংসদ জুন মালিয়াকে নিজের নেত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি জুন মালিয়াসহ তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ ত্রিপুরাভিত্তিক আঞ্চলিক দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে যে জল্পনা চলছে, তার মধ্যে প্রদীপ সরকারের এই মন্তব্য শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।