জেলেনস্কিকে মোদির শান্তির বার্তা, মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সেতু হবে দিল্লি?

ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত লাগাতার শান্তির পক্ষে সওয়াল করে আসছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী মোদি সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া এবং মানবতাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সহমত হওয়ার কথাও প্রকাশ করেছেন।
কূটনৈতিক ভারসাম্যের কৌশল
জি-৭ সম্মেলনের এই মঞ্চ থেকে যখন ইউক্রেনকে আরও বেশি অস্ত্র সহায়তার ইঙ্গিত মিলছে, ঠিক তখনই মোদি-জেলেনস্কি সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও ইউক্রেনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে ভারত। এই সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কারণে একদিকে যেমন মস্কোর বার্তা জেলেনস্কির কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি পশ্চিমা দেশগুলোর মনোভাবও রাশিয়ার কাছে তুলে ধরা সহজ। ফলে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে একটি কার্যকর কূটনৈতিক ‘সেতু’ হিসেবে দিল্লির ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
শান্তি ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
ভারত বরাবরই বিশ্বাস করে যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং আলোচনার টেবিল ও কূটনীতির মাধ্যমেই যেকোনো সংকটের অবসান ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মতোই রাশিয়া-ইউক্রেনকেও আলোচনার টেবিলে বসাতে আগ্রহী ভারত। যদি দিল্লির এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির সূত্র ধরে দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে রাজি হয়, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের এক বিরাট কূটনৈতিক জয় হিসেবে গণ্য হবে। একই সাথে দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের অবসান ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।