‘বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন’, বিতর্কিত মন্তব্যে এবার বড় বিপাকে মহুয়া মৈত্র!

রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গ্রেপ্তারের আবহের মধ্যেই এবার নতুন আইনি বিতর্কে জড়ালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে হোগলবেরিয়া থানায় একটি লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি নেতা হীরক ভট্টাচার্য এবং করিমপুর বিজেপির পক্ষ থেকে দায়ের করা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে নদিয়ার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভের পাল্টা জবাব ও বিতর্কিত মন্তব্য
ঘটনার সূত্রপাত দিনকয়েক আগে, যখন একটি পুরনো মামলায় মহুয়া মৈত্রের আদালতে হাজিরা দেওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতের বাইরে বেশ কয়েকজন বিজেপি মহিলা নেত্রী ডিম ও টমেটো হাতে অবস্থান নেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সাংসদকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মহুয়া মৈত্র নিজের ফেসবুক পেজে পরপর দুটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। দ্বিতীয় ভিডিওটিতে আন্দোলনকারী মহিলাদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এভাবে প্রকাশ্য ডিম ছোড়ার চেয়ে বোরখা পরে ডিম ছুড়লে কেউ চিনতে পারবে না এবং আইনি ঝামেলাও এড়ানো যাবে। এই প্রসঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুসলিম কর্মীদের স্ত্রীদের কাছ থেকে বোরখা ধার করার পরামর্শও দেন তিনি, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সাংসদের এই বক্তব্য সনাতন ও মুসলিম উভয় ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং এর ফলে অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের পর কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর রাজনৈতিক চাপ ও অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।