সুপার এল নিনোর চোখরাঙানিতে চরম সংকটে দেশের ১২ রাজ্য, স্বস্তিতে কি বাংলা?

সুপার এল নিনোর চোখরাঙানিতে চরম সংকটে দেশের ১২ রাজ্য, স্বস্তিতে কি বাংলা?

ভারতে ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে এল নিনো। চলতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের আগে বর্ষা এলেও তার গতি অত্যন্ত ধীর, যার জেরে ১৬ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণেই এই এল নিনো তৈরি হয়। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা এনওএএ (NOAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসের শেষে এই তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে, যার অর্থ ভারত একটি ভয়ংকর ‘সুপার এল নিনো’-র দিকে এগোচ্ছে। এর জেরে দেশে ব্যাপক খরা পরিস্থিতি এবং ফসল উৎপাদনের ঘাটতির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

১২ রাজ্যে খরার অশনি সংকেত

আসন্ন খরিফ মরশুমে এল নিনোর সর্বাধিক প্রভাব পড়তে পারে এমন ১২টি রাজ্যকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক। এই রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলঙ্গানা, কর্নাটক, ওড়িশা, গুজরাট, রাজস্থান, বিহার, মধ্য প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্র। এই রাজ্যগুলির মোট ৩২৬টি জেলাকে খরা ও কম বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এই আশঙ্কাজনক তালিকার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নাম নেই, যা রাজ্যের কৃষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।

কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব ও সরকারি পদক্ষেপ

স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের কারণে জলের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আসন্ন এই সংকট মোকাবিলায় সরকার উন্নত বীজের ব্যবহার এবং শস্য আবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষত ডাল, তুলা, জোয়ার ও বাজরা চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গোটা দেশের জলাধারগুলির জলস্তর ও ফসলের দাম নিয়মিত পর্যালোচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান আশ্বাস দিয়েছেন যে, কৃষকদের সাহায্যার্থে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *