সরকার বদলাতেই ম্যাজিক, অনুব্রতর গড় থেকে কোষাগারে ৭ গুণ বেশি রাজস্ব!

একসময় রাজনৈতিক মহলে বীরভূম বলতেই তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নাম ও বালি-পাথর খাদানের সিন্ডিকেটরাজের কথা সবার আগে উঠে আসত। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেই বীরভূমের চিত্রটা যেন জাদুবলে বদলে গিয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে জেলার পাথর খাদানগুলি থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় এক ধাক্কায় প্রায় সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাথর খাদানের দুর্নীতি বন্ধ করে স্বচ্ছতা আনার ফলেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এখন সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।
দুর্নীতির খতিয়ান ও রাজস্ব বৃদ্ধির কারণ
রাজ্যের মন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। অথচ এর আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিলে এই আদায়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। বিগত সরকারের আমলে বিশেষ করে নির্বাচনের বছরগুলিতে সরকারি রাজস্ব সুকৌশলে লুঠ করে দলীয় তহবিলে পাঠানো হত বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বীরভূমের বালি ও পাথরের সিন্ডিকেটরাজ খতম করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ ও প্রশাসন একই থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ডিসিআর (DCR) আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই এই বিপুল রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
আগামী দিনের লক্ষ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজস্ব আদায়ের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ রাজ্যের অর্থনীতিতে একটি বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামী মাসে এই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে বলে প্রশাসনের আশা। এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কোষাগার মজবুত হওয়ার পাশাপাশি, এই জেলা থেকে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে বালি সরবরাহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বীরভূমে এই জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ সফল হলে আগামী দিনে গোটা রাজ্যেই তা কার্যকর করা হতে পারে।