বিষ্ণুপুরে তৃণমূলের বড় ধাক্কা, ভোটের হারে দায় নিয়ে ইস্তফা দিলেন পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধান!

সোনামুখী ও বাঁকুড়া পুরসভার পর এবার বাঁকুড়া জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে যোগ হলো নতুন মাত্রা। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের জেরে বিষ্ণুপুর পুরসভার পুরপ্রধান গৌতম গোস্বামী এবং উপ-পুরপ্রধান মহাবীর আগরওয়াল তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বুধবার বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই ঘটনার ফলে জেলা স্তরে ঘাসফুল শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি আরও হ্রাস পেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভোটের বিপর্যয় ও নৈতিক দায় স্বীকার
পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়। পদত্যাগী পুরপ্রধানদের দাবি, বিষ্ণুপুর পুরসভার অন্তর্গত সবকটি ওয়ার্ডেই তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। মানুষের এই স্পষ্ট রায় বা জনাদেশকে সম্মান জানিয়েই তাঁরা পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে পুরপ্রধানের পদ ছাড়ার পাশাপাশি গৌতম গোস্বামী নিজেকে তৃণমূল দল থেকেও সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, যা জেলার রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অবশ্য পদাধিকারী পদ ছাড়লেও সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে তাঁরা সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
একটানা ৪ বছর ৩ মাস এই পুরবোর্ড পরিচালনার পর শীর্ষ দুই নেতার এভাবে সরে দাঁড়ানোয় বিষ্ণুপুর পুরসভার প্রশাসনিক কাজে এক ধরনের সাময়িক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের নিরিখে বাঁকুড়া জেলায় শাসকদলের এই ক্রমাগত শক্তি হ্রাস আগামী দিনে স্থানীয় পুরবোর্ডের স্থায়িত্ব ও উন্নয়নমূলক কাজের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে। একের পর এক পুরসভায় তৃণমূলের এই ভাঙন ও কোন্দল জেলার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।