বাজারে আগুন অথচ বরাদ্দ কম! মিড-ডে মিলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান শিক্ষকেরা

সরকারি নির্দেশিকা মেনে স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল চালাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের শিক্ষকদের একাংশ। সম্প্রতি মালদা জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে মিড-ডে মিলের রান্না নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও জটিলতার দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি নিয়মের বেড়াজাল ও অপর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে স্কুলশিক্ষা দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন শিক্ষকেরা।
আগুনে বাজার বনাম নামমাত্র বরাদ্দ
শিক্ষকদের প্রধান অভিযোগ হলো, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া হলেও মিড-ডে মিলের সরকারি বরাদ্দ এক টাকাও বাড়েনি। বর্তমানে বাজারে একটি ডিমের দাম যেখানে ৭ টাকার বেশি, সেখানে প্রাথমিক স্তরের প্রতি পড়ুয়ার জন্য সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। এই সামান্য টাকা দিয়ে একটি আস্ত ডিম কেনাই আসাম্ভব, তার ওপর চাল, সবজি, ভোজ্যতেল এবং রান্নার গ্যাসের খরচ চালানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষকেরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন অথবা রান্নার গুণগত মান ও পরিমাণ কমাতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন।
সরকারি নির্দেশিকা ও বর্তমান সংকট
সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়েছে স্থূলতা রোধে রান্নায় ভোজ্যতেল ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা। কম তেল ব্যবহারের এই নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে গিয়ে রাঁধুনি ও অভিভাবকদের সন্দেহের পাত্র হতে হচ্ছে প্রধানশিক্ষকদের। এছাড়া রান্নার গ্যাসের ঘাটতি এবং গ্রীষ্মাবকাশের পর স্কুল খোলার পর থেকে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই বহুবিধ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষকেরা কোনো তৃতীয় পক্ষ বা স্বাধীন সংস্থাকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।