দুর্নীতির জেরে আটকে মাটি, প্রতিমা গড়া নিয়ে চরম সঙ্কটে কুমোরটুলি!

দুর্নীতির জেরে আটকে মাটি, প্রতিমা গড়া নিয়ে চরম সঙ্কটে কুমোরটুলি!

পুজোর আর মাত্র মাস চারেক বাকি, অথচ কুমোরটুলির অলিগলিতে এখন চরম অনিশ্চয়তা। প্রতিমা তৈরির মূল উপাদান মাটির জোগান প্রায় এক মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ। খড়ের কাঠামো তৈরি থাকলেও মাটির অভাবে কাজ এগোচ্ছে না। শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার মুখে বহু অর্ধসমাপ্ত কাঠামো। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দুর্গা, কালী বা লক্ষ্মী প্রতিমা গড়ার বরাত নিতেও সাহস পাচ্ছেন না শিল্পীরা।

দুর্নীতির জেরে মাটির আকাল

কুমোরটুলিতে প্রতিমা গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ আঠালো মাটি আসে ডায়মন্ড হারবার থেকে। অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে সেখানকার স্থানীয় নেতারা বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রি করতেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং নতুন সরকার মাটি কাটার কাজে রাশ টানে। এর ফলেই কুমোরটুলিতে মাটির লরি ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতির পক্ষ থেকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন শিল্পীরা। সরকারের তরফ থেকে মাটি আনার আশ্বাস মিললেও তা এখনও এসে পৌঁছয়নি।

কারিগরদের ভবিষ্যৎ ও মোহনার পলি

মাটি না থাকায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মৃৎশিল্পীরা। কাজ বন্ধ থাকায় বহু কারিগর কুমোরটুলি ছেড়ে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রের মতে, প্রতিমার সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং আস্তরণের জন্য গঙ্গার মোহনার মিহি ও আঠালো এঁটেল মাটি অপরিহার্য, যা কেবল ডায়মন্ড হারবারের কাছেই পাওয়া সম্ভব। দামোদর বা অন্য কোনও নদীর মাটিতে এই কাজ সম্ভব নয়। বছরে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ লরি মাটির প্রয়োজন হয় এই শিল্পপল্লিতে। দ্রুত মাটি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ও আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি গভীর সঙ্কটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *