দামোদরের তীরে রক্তাত্ব ছাত্রের মৃতদেহ ও রহস্যময় বাইক, নেপথ্যে কি নৃশংস হত্যাকাণ্ড?

দামোদরের তীরে রক্তাত্ব ছাত্রের মৃতদেহ ও রহস্যময় বাইক, নেপথ্যে কি নৃশংস হত্যাকাণ্ড?

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মুইদিপুর এলাকায় দামোদর নদ লাগোয়া রিভার পাম্পের কাছ থেকে এক দশম শ্রেণীর ছাত্রের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে নদী থেকে রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধারের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একটি রহস্যময় নম্বর প্লেটবিহীন লাল মোটরবাইক। মৃত নাবালকের মুখমণ্ডল রক্তাক্ত এবং বাঁ চোখের ওপরে কপালে গভীর কাটার দাগ থাকায় তাকে নৃশংসভাবে খুন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

রহস্যময় লাল বাইকটির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করতেই ঘটনার জট খুলতে শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ছাত্রের বাড়ি হুগলি জেলার দশঘড়া এলাকায়। মঙ্গলবার ওই লাল বাইকটি নিয়েই সে মুইদিপুরে এসেছিল। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই হুগলির ধনিয়াখালি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে বহিরাগত ৪-৫ জন যুবক নদীর পাড়ে এসে খাওয়া-দাওয়া করে চলে গেলেও, এই লাল রঙের বাইকটি দুপুর থেকেই ঝোপের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল। বুধবার সকালে পুলিশ এসে মৃতদেহের সাথে বাইকটিও নিজেদের হেফাজতে নেয়।

খুনের আশঙ্কা ও ঘনীভূত রহস্য

উদ্ধারের সময় মৃত ছাত্রের পরনে কেবল একটি হাফপ্যান্ট ছিল। তার জামাকাপড় এবং স্কুলব্যাগ কোথায় গেল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জামালপুর থানার পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ছাত্রটি সেখানে একা এসেছিল নাকি তার সাথে অন্য কেউ ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ধনিয়াখালি ও জামালপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *