গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় ফের হাই কোর্টে অভিষেকের পিএ সুমিত রায়, কালই শুনানির সম্ভাবনা!

জমি দুর্নীতি ও নির্বাচনী টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায় গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় আবারও কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। শালবনি থানার পুলিশ সক্রিয় হতেই সুমিত রায় আইনি সুরক্ষার খোঁজে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতির মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে আগামীকাল শুক্রবার এই মামলার আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে একবার তাঁর দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হলেও, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলেন।
তদন্তের উৎস ও সুমিতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পুলিশি তদন্তে প্রকাশ, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তারের পর এই চক্রের সঙ্গে সুমিত রায়ের সরাসরি যোগসূত্রের কথা সামনে আসে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি এবং শালবনি এলাকায় একটি বড়সড় জমি দুর্নীতির ঘটনায় সুমিতের নাম জড়িয়েছে। মেদিনীপুর জেলা পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় আদালত ইতিপূর্বেই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও লুক আউট নোটিস জারি করেছে। সুমিতের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন অনুসরণ করে পুলিশ কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তল্লাশি চালালেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
মামলার সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব হাই কোর্টের এই আসন্ন শুনানির ওপর রাজ্য রাজনীতির গভীর নজর রয়েছে। সুমিত রায় যদি আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা না পান, তবে মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পথ সম্পূর্ণ সুগম হবে। অন্যদিকে, শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত যত গভীর হবে, ততই তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাপ বাড়াবে। আগামীকাল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এই হাইপ্রোফাইল মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং সুমিত রায়ের আইনি ভবিষ্যৎ।