এটিএমের কি-প্যাডে নতুন ফাঁদ! আঙুলের স্পর্শেই খালি হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

এটিএমের কি-প্যাডে নতুন ফাঁদ! আঙুলের স্পর্শেই খালি হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

এটিএম থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পর আচমকাই ফোনে মেসেজ এলো, অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেছে বড় অঙ্কের টাকা। অথচ এটিএম কার্ডটি নিজের কাছেই রয়েছে এবং কাউকেই কোনো ওটিপি দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল দুনিয়ায় এমন অভিনব প্রতারণার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে প্রতারকেরা এবার এটিএম বুথগুলোতে পেতেছে এক অদৃশ্য ফাঁদ, যার নাম ‘থার্মাল স্ক্যানিং ফ্রড’। এই পদ্ধতিতে গ্রাহকের অজান্তেই তাঁর এটিএম কার্ডের গোপন পিন নম্বর চুরি করে নেওয়া হচ্ছে।

থার্মাল স্ক্যানিংয়ের কার্যপদ্ধতি ও ঝুঁকি

থার্মাল স্ক্যানিং হলো এমন একটি বিশেষ প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে বস্তুর তাপমাত্রা বা তাপের উৎস শনাক্ত করা যায়। গ্রাহক যখন এটিএম মেশিনের কি-প্যাডে বোতাম চেপে নিজের পিন নম্বর টাইপ করেন, তখন তাঁর আঙুলের স্পর্শের কারণে ওই বোতামগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ শারীরিক উত্তাপ বা তাপের চিহ্ন থেকে যায়। গ্রাহক টাকা তুলে চলে যাওয়ার পরপরই অপরাধীরা বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইসের সাহায্যে সেই কি-প্যাডের ছবি বা থার্মাল ইম্প্রিন্ট সংগ্রহ করে। এই তাপীয় চিত্র বিশ্লেষণ করে খুব সহজেই বোঝা যায় যে ঠিক কোন কোন বোতামগুলো চাপানো হয়েছিল। এর ফলে মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গ্রাহকের এটিএম পিন অপরাধীদের হাতে চলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশেই নির্ভর করে এটিএম মেশিনের কি-প্যাডের উপাদানের ওপর। প্লাস্টিকের তৈরি কি-প্যাডে আঙুলের তাপ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। ফলে থার্মাল স্ক্যানারের সাহায্যে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পিন নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, মেটালের বা ধাতব কি-প্যাডগুলো খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায় বলে সেখানে দীর্ঘক্ষণ তাপের চিহ্ন থাকে না। ফলে ধাতব কি-প্যাডযুক্ত এটিএম বুথগুলোতে এই ধরনের জালিয়াতি করা অপরাধীদের জন্য বেশ কঠিন।

প্রভাব এবং আর্থিক সুরক্ষার কৌশল

এই নতুন প্রযুক্তির কারণে সাধারণ গ্রাহকেরা চরম আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। প্রথাগতভাবে পিন নম্বর টাইপ করার সময় আড়াল করার যে নিয়ম রয়েছে, তা এই জালিয়াতি রুখতে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। কারণ গ্রাহক বুথ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও তাঁর আঙুলের তাপ কি-প্যাডে থেকে যায়, যা পরবর্তী সময়ে অ্যাকাউন্ট খালি করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে আমজনতার কষ্টার্জিত অর্থ মুহূর্তের মধ্যে লোপাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই অদৃশ্য বিপদ থেকে বাঁচতে এবং অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এটিএমে পিন নম্বর দেওয়ার সময় এক হাত দিয়ে কি-প্যাডটি সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা উচিত, যাতে তাৎক্ষণিক কোনো ডিভাইস তা স্ক্যান করতে না পারে। পিন টাইপ করা শেষ হলে কি-প্যাডের আরও কয়েকটি অতিরিক্ত বোতামে এলোমেলোভাবে আঙুল ছোঁয়ালে আসল পিনের তাপীয় নকশাটি নষ্ট হয়ে যায় এবং প্রতারকদের পক্ষে আসল পিন শনাক্ত করা আসাম্ভব হয়ে পড়ে। এ ছাড়া, এটিএম বুথে প্রবেশের সময় আশেপাশে কোনো সন্দেহজনক ডিভাইস বা ব্যক্তি রয়েছে কি না তা যাচাই করা এবং নিয়মিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *