অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে যুক্ত কোন রহস্য, মমতার পাড়ায় হানা দিল সিআইডি!

নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন ডিজে হুমকি মামলার তদন্তে এবার এক নাটকীয় মোড় সামনে এল। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে দীর্ঘ সাড়ে ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে হানা দেন সিআইডি গোয়েন্দারা। মুখ্যমন্ত্রীর ছোট বোনের বাড়ি অর্থাৎ অভিষেকের পিসতুতো বোন অদিতি গায়েনের আবাসনে এই আচমকা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ৮ থেকে ১০ জনের একটি বিশেষ সিআইডি দল, যার মধ্যে মহিলা আধিকারিকরাও ছিলেন, দুপুরের দিকে ওই আবাসনে প্রবেশ করেন।
সামাজিক মাধ্যমের প্রচার ও সিআইডি অনুসন্ধান
অদিতি গায়েন মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং অনলাইন প্রচারের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তৃতা ও প্রচার সংক্রান্ত ডিজিটাল বিষয়গুলো পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, অদিতির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কথা বলেন তদন্তকারীরা। সামাজিক মাধ্যমে প্রচার পর্বে অভিষেকের হয়ে যে সমস্ত পোস্ট করা হতো, সেই বিষয়গুলোই ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে বিতর্কিত ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত কোনো পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার বা আপলোড করা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচনী প্রচার পর্বের একটি ডিজে হুমকি মামলাকে কেন্দ্র করে। সিআইডি-র এই অতিসক্রিয়তার কারণে শাসক দল ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ উপাসনা চৌধুরী এই অভিযানের সময়কাল নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের সময়ের একটি বিষয় নিয়ে কেন এতদিন পর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় সিআইডি-র এই হানা এবং অভিষেকের প্রচারের দায়িত্বে থাকা সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনাটি আগামী দিনে রাজ্যের শাসক দলের ডিজিটাল প্রচার কৌশল ও আইনি লড়াইয়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।