মেসির হ্যাটট্রিকে মাতোয়ারা বাংলায় রাজনৈতিক উত্তাপ, অরূপ বিশ্বাসকে সজল-রুদ্রনীলের তীব্র কটাক্ষ!

মেসির হ্যাটট্রিকে মাতোয়ারা বাংলায় রাজনৈতিক উত্তাপ, অরূপ বিশ্বাসকে সজল-রুদ্রনীলের তীব্র কটাক্ষ!

আমেরিকার কানসাস স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিককে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবলপ্রেমীরা আবেগে ভাসছেন, ঠিক তখনই সেই উন্মাদনার আঁচ এসে পড়ল বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জ্বরে বুঁদ ক্রীড়ামোদিদের এই গভীর উচ্ছ্বাসের আবহেই রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে জড়িয়ে তীব্র রাজনৈতিক কৌতুক ও আক্রমণ শানালেন বিরোধীরা। মেসির চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সকে হাতিয়ার করে শাসকদলের এই প্রভাবশালী নেতাকে তীক্ষ্ণ ভাষায় খোঁচা দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এবং রুদ্রনীল ঘোষ।

কাতুকুতু বিতর্কে বিদ্ধ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী

বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক সজল ঘোষ ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, মেসি নাকি তাঁর এক ‘মাসতুতো ভাই’ তথা বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। সজলের দাবি, মেসি রসিকতা করে বলেছেন যে অতীতে ওই নেতার দেওয়া বিশেষ ‘কাতুকুতু’র কারণেই নাকি তিনি আজ মাঠে নেমে পরপর তিনটি গোল বা হ্যাটট্রিক করতে পেরেছেন। একই সুর শোনা গেছে শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের গলাতেও। তিনি সাফ জানান, মেসির মতো গুণী মানুষরা খেলার মাঠে ভালো কাজের হ্যাটট্রিক করেন, আর অরূপ বিশ্বাসের মতো ব্যক্তিরা অপরাধের দুনিয়ায় হ্যাটট্রিক করছেন। রাজনীতির সঙ্গে খেলাধুলোর এই মেলবন্ধন স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বিতর্কের নেপথ্য কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই রাজনৈতিক উপহাসের নেপথ্যে রয়েছে মেসির ভারত সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক গভীর আইনি বিতর্ক। গত ডিসেম্বর থেকে রাজ্যে ক্ষমতাবদলের পর থেকেই ‘মেসি কাণ্ড’ নিয়ে তোলপাড় চলছে। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মেসির সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত থানায় অভিযোগ করেন যে, মেসির সফরের জন্য তৈরি করা ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে জোরপূর্বক ২২ হাজার টিকিট নিজের দখলে নিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী, যা পরে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। এমনকি মেসির কড়া নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলার তদন্তে নেমে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে পরপর তিনবার তলব করলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। যদিও উচ্চ আদালত আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর ওপর কোনো কঠোর পদক্ষেপ না করার রক্ষাকবচ দিয়েছে, তবুও তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ বহাল রয়েছে। অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হন অরূপ বিশ্বাস, যেখানে তাঁকে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং আগামী ২২ জুন পুনরায় তলব করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। খেলার মাঠের আবেগ ও দুর্নীতির অভিযোগকে যেভাবে বিরোধীরা এক সুতোয় বেঁধে জনগণের দরবারে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তদন্তের অগ্রগতির পাশাপাশি শাসক ও বিরোধী শিবিরের কাদা ছোড়াছুড়ি আগামী দিনে আরও তীব্র রূপ ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *