জি৭ মঞ্চে রাষ্ট্রনেতাদের গোপন কথা ফাঁস, ট্রাম্পের সাইকেল প্রাপ্তি থেকে মেলোনির ধূমপান বর্জন!

আন্তর্জাতিক কূটনীতির গম্ভীর আলোচনার বাইরেও বিশ্বনেতাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা গল্প এবং হালকা মেজাজের রসিকতা মাঝেমধ্যেই নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের। সম্প্রতি জি৭ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরুর আগে রাষ্ট্রনেতাদের এমনই কিছু একান্ত ও মজার আলাপচারিতা প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ধূমপান ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘড়ি হারিয়ে ফেলা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাইকেল পাওয়ার মতো একাধিক ‘গোপন’ ও মজাদার তথ্য ফাঁস হয়েছে।
কফি-সিগারেটের আড্ডা ও ঘড়ি বিভ্রাট
সম্মেলনের শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের সঙ্গে কথা বলার সময় ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান, ঘুম কাটাতে তাঁকে তিন কাপ কফি খেতে হয়েছে। চ্যান্সেলর মার্জ কফির সঙ্গে সিগারেটের প্রয়োজনীয়তার কথা জানতে চাইলে মেলোনি জানান, তিনি এক মাস আগে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। এই আলোচনার সূত্র ধরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার মধ্যেও ধূমপান নিয়ে কথা হয়, যেখানে কোস্তা জানান তিনি দীর্ঘ ২১ বছর আগে ধূমপান বর্জন করেছেন।
অন্য এক ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘড়ি হারানোর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনে রসিকতা করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। মধ্যাহ্নভোজের পর ম্যাক্রোঁ তাঁর ঘড়িটি কোথাও ফেলে এলে কারনি সবাইকে জানান যে ঘড়িটি এখন তাঁদের হেফাজতে রয়েছে। এই শুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গম্ভীর সুরে সেটি নিজেকে উপহার হিসেবে দেওয়ার দাবি জানালে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন।
ট্রাম্পের সাইকেল প্রাপ্তি ও গ্রিনল্যান্ড রহস্য
এবারের সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের একটি করে সাইকেল উপহার দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ, যা পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। উপহারের এই বিষয়টিও নেতাদের ঘরোয়া আলোচনায় স্থান পায়। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রহস্যময়ভাবে ‘গ্রিনল্যান্ড’ প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে তাঁরা ঠিক কী বিষয়ে কথা বলছিলেন, তা স্পষ্ট জানা যায়নি।
বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের মাঝে বিশ্বনেতাদের এই ধরণের অনানুষ্ঠানিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও সহজ করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, বিশ্ব পরিচালনার গুরুদায়িত্বের বাইরেও এই শীর্ষ নেতারা সাধারণ মানুষের মতোই হালকা মুহূর্ত ও রসিকতা উপভোগ করেন, যা তাঁদের মানবিক দিকটিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে।