টিকিটবঞ্চিত প্রাক্তন বিধায়কদের মুখ্যমন্ত্রীর তলব, ক্ষোভ প্রশমনে কি নয়া চাল শুভেন্দুর!

টিকিটবঞ্চিত প্রাক্তন বিধায়কদের মুখ্যমন্ত্রীর তলব, ক্ষোভ প্রশমনে কি নয়া চাল শুভেন্দুর!

রাজ্যে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হলো এক নতুন সমীকরণ। বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না-পাওয়া বিজেপির ১৬ জন প্রাক্তন বিধায়ককে বিধানসভায় নিজের ঘরে ডেকে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দল যে তাঁদের ভুলে যায়নি এবং তাঁদের নিয়ে ভাবছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্টতই সেই বার্তা দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন নাকি সংগঠনের কাজে তাঁদের ব্যবহার করা হবে—তা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ক্ষোভ প্রশমন ও অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের টিকিট না পেয়ে এই প্রাক্তন বিধায়কদের মধ্যে যে সুপ্ত অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেই এই জরুরি পদক্ষেপ। আরামবাগের প্রাক্তন বিধায়ক মধুসূদন বাগ কিংবা গোঘাটের বিশ্বনাথ কারকদের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে জনসংযোগহীনতার কোনো অভিযোগ ছিল না। মূলত দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়াতেই সে সময় জেতা আসনে প্রার্থী বদল করতে বাধ্য হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। একইভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতিও দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে বিতর্কে জড়িয়ে টিকিট খুইয়েছিলেন। নির্বাচনের পর এই ১৬ জন অভিজ্ঞ নেতা যাতে নিষ্ক্রিয় বা দলবিমুখ হয়ে না পড়েন, তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে তাঁদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেন।

সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রভাব

এই বৈঠকের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে। দলীয় কোন্দল সামাল দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিজেদের জমি ধরে রাখা এখন নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই প্রাক্তন বিধায়কদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন ক্ষুব্ধ কর্মীদের চাঙ্গা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সরকারের প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক কাজে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করলে দলের ঐক্য বজায় থাকবে। আগামী ২২ জুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের প্রথম বাজেট পেশের আগেই এই অভ্যন্তরীণ ড্যামেজ কন্ট্রোল প্রক্রিয়া দলের ভিতকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *