স্বরূপ বিশ্বাসের জামিন নাকচের দাবিতে সরব রাজ্য, রন্ধ্রে রন্ধ্রে তোলাবাজির অভিযোগে তোলপাড় আলিপুর আদালত

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা টালিগঞ্জের ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের জামিনের আবেদন ঘিরে আলিপুর আদালতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত ৪ জুন রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলার তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ স্বরূপকে গ্রেফতার করে। ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে জামিনের পক্ষে ও বিপক্ষে চলে জোরদার সওয়াল-জবাব। স্বরূপের আইনজীবী যেকোনো শর্তে জামিন দাবি করলেও, রাজ্য সরকার এবং অভিযোগকারিণীর আইনজীবীরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন।
তদন্তে শূন্যতা বনাম তোলাবাজির রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রমাণ
আদালতে স্বরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী দাবি করেন, দীর্ঘ ১৪ দিন হেফাজতে রেখেও পুলিশ তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনো ठोस প্রমাণ বা অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। তোলাবাজির টাকা উদ্ধারের যে দাবি করা হয়েছিল, তাও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফেডারেশনের ডোনেশন হিসেবে নেওয়া ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার বৈধ রসিদ রয়েছে বলে দাবি করে যেকোনো শর্তে তাঁর জামিন চাওয়া হয়।
পাল্টা যুক্তিতে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, স্বরূপ ভয় দেখিয়ে টাকা তুলতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে রন্ধ্রে রন্ধ্রে তোলাবাজির প্রমাণ মিলেছে। পুলিশি হেফাজতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে এবং ফেডারেশনে যুক্ত করার নাম করে টাকা নেওয়ার ৬৬টি রসিদ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, টালিগঞ্জের কর্মচারীদের আয়ের ৫ শতাংশ দাবি করতেন স্বরূপ এবং কোভিড অতিমারির সময়েও ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। এমনকি ফেডারেশনের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ৭৫ লক্ষ টাকার কোনো হিসাব পাননি বলে আদালতে জানানো হয়।
প্রভাব খাটানো ও সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কা
মামলার গভীরতা আরও বাড়িয়ে অভিযোগকারিণীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, স্বরূপ বিশ্বাস মন্ত্রী-ভ্রাতা হওয়ার সুবাদে ব্যাপক প্রভাব খাটাতেন এবং ক্যামেরা লাগানো চশমা পরে থাকতেন। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ টেকনিশিয়ানরা তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন এবং নারীদের ওপর অত্যাচার চালানো হতো বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এই পরিস্থিতিতে স্বরূপ বিশ্বাস জামিন পেলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। টালিগঞ্জের বিনোদন জগতের ওপর এই প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের তরফে তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।