আইনজীবীর চেম্বারে অবরুদ্ধ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বাইরে ডিম হাতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ!

মেসি-কাণ্ডে পুলিশি জেরা এড়াতে পারলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের ভেতরে আইনজীবীদের নজিরবিহীন ক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের নজর এড়াতে আলিপুর জজ কোর্টে এক আইনজীবীর চেম্বারে আশ্রয় নেন তিনি। কিন্তু সেখানেও শেষ রক্ষা হয়নি। যুবভারতীতে লিওনেল মেসির সফরের টিকিটের টাকা ফেরতের দাবিতে ডিম হাতে তাঁর চেম্বার ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীদের একাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘক্ষণ চেম্বারের আলো পর্যন্ত নিভিয়ে রাখতে হয়।
থানা থেকে বেরিয়েই আদালতের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। এর আগে তিন বার সমন এড়ালেও এদিন ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। থানা থেকে বেরিয়ে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরার পর তিনি আলিপুর আদালতে আইনজীবী গোপাল হালদারের সেরেস্তায় পৌঁছান। অরূপের আদালতে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আইনজীবীদের একটি বড় অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। টিকিটের টাকা ফেরতের দাবি তুলে তাঁরা ডিম হাতে চেম্বারের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। আইনজীবীদের অন্য একটি অংশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ঘরের ভেতরে বসে থাকতে বাধ্য হন প্রাক্তন মন্ত্রী।
বিক্ষোভের কারণ ও সম্ভাব্য আইনি প্রভাব
এই নজিরবিহীন বিক্ষোভের মূলে রয়েছে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, যেখানে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের অতি-সক্রিয়তার কারণে মেসি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বলে অভিযোগ ওঠে। সাধারণ দর্শকদের একাংশ টিকিট কেটেও ম্যাচ দেখতে না পারায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মন্ত্রীপদ খোয়াতে হয়েছিল অরূপকে। বর্তমানে এই মামলায় আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ রয়েছে তাঁর পক্ষে। তবে এই রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। ফলে, একদিকে যেমন আদালতের ভেতরের এই গণবিক্ষোভ প্রাক্তন মন্ত্রীর ওপর সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ের তীব্রতা আগামী দিনে তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।