কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকবে ২০০০ টাকা, তারকেশ্বর থেকে বড় ঘোষণা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী!

দেশের কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম সফল প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’ (পিএম কিসান)-র ২৩তম কিস্তির টাকা পাওয়ার অপেক্ষা এবার শেষ হতে চলেছে। আগামী ২০ জুন হুগলির তারকেশ্বর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ২৩তম কিস্তির টাকা রিলিজ করবেন। ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২,০০০ টাকা পৌঁছে যাবে। এর আগে গত ১৩ মার্চ আসামের গুয়াহাটি থেকে ২২তম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর এই টাকা দেওয়া হয়, যার ফলে জুন মাসেই এই পরবর্তী কিস্তি পেতে চলেছেন কৃষকরা।
উপভোক্তাদের তালিকায় বড় কাটছাঁট ও কড়া নিয়ম
এবারের কিস্তির টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার উপভোক্তাদের তালিকায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন ও কাটছাঁট করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারির পর কৃষি জমি কিনেছেন এবং যেসব পরিবারে একের বেশি উপভোক্তা রয়েছেন, তাদের ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তাছাড়া, পিএম কিসানের সুবিধা পাওয়ার জন্য ই-কেওয়াইসি (e-KYC) এবং সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক জমির মালিক, আয়কর দাতা, বর্তমান বা প্রাক্তন সাংবিধানিক পদের অধিকারী, এবং সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের সুবিধার বাইরে থাকবেন।
কৃষি অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষক পরিবার উপকৃত হবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই অর্থ মূলত বীজ, সার এবং চাষবাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে কৃষকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সুবিধা দেবে, যার ফলে চাষের খরচ কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তবে সরকারের এই কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক ভুয়ো বা অযোগ্য আবেদনকারী তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, যা প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত করবে। যোগ্য কৃষকরা এখনও পিএম কিসানের অফিসিয়াল পোর্টাল বা নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।