বিধানসভায় ফাটল স্পষ্ট, ঋতব্রতকে মানতে নারাজ কুণালরা

বিধানসভায় ফাটল স্পষ্ট, ঋতব্রতকে মানতে নারাজ কুণালরা

বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল রাজ্য বিধানসভা। একই দলের দুই শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। দল থেকে ‘বহিষ্কৃত’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৬০ জনেরও বেশি তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো কালীঘাট শিবিরের শীর্ষ বিধায়করা বিধানসভায় তাঁদের পৃথক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দেন।

ঋতব্রতকে বয়কট ও সময়ের টানাপোড়েন

বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন কুণাল ঘোষ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সহ পাঁচ বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকের পর কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনোভাবেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানতে রাজি নন। সাধারণত বিধানসভায় বিরোধীদের জন্য যে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে, তা বিরোধী দলনেতার মাধ্যমেই বণ্টিত হয়। তবে এই শিবির স্পষ্ট করেছে, তাঁরা ঋতব্রতর কাছে কোনো সময়ের দাবি জানাবেন না। পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের জন্য আলাদা সময়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

পৃথক ঘর ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

শুধু সময়ের জেদই নয়, বিধানসভায় বসার জায়গাকে কেন্দ্র করেও দূরত্ব বজায় রাখছে এই শিবির। ঋতব্রত শিবিরকে ইতিমধ্যেই বিরোধীদের মূল ঘরটি দেওয়া হয়েছে। ফলে কুণাল ঘোষ, মদন মিত্রদের জন্য পৃথক বসার ঘরের দাবি জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী সেই দাবি মেনে আলাদা ঘরের বন্দোবস্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার ফলে নামে দুই পক্ষই তৃণমূলের অংশ হলেও, বিধানসভার অন্দরে তাদের মধ্যে যে আর কোনো সংযোগ বা সমন্বয় থাকবে না, তা নিশ্চিত হলো। এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বিধানসভার কার্যপরিচালনায় নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *