ভরাডুবির বাজারেও কোটি টাকার চার্টার্ড বিমান সফর, কালীঘাটের বিরুদ্ধে ফুঁসছে তৃণমূল!

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের পর এবার তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের একটি বড় অংশ যখন প্রতিনিয়ত পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারির শিকার হচ্ছে, ঠিক তখনই দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফায় দফায় চার্টার্ড বিমানে দিল্লি-কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিলাসবহুল বিমানে দিল্লি সফর করেছেন। নিচুতলার কর্মীদের চরম দুর্দিনের মধ্যে এই বিপুল খরচের খতিয়ান সামনে আসতেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের একাংশ।
আকাশছোঁয়া খরচের খতিয়ান ও তহবিলের রহস্য
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার তলবে একটি শুনানিতে হাজিরা দিতে শুক্রবারও চার্টার্ড বিমানে দিল্লি যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর ও দলীয় সূত্রের খবর, এর আগেও ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকসহ বিভিন্ন কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন এই বিশেষ বিমান ব্যবহার করেছেন। এই ধরনের লং রেঞ্জ চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রতি ঘণ্টার উড়ান খরচ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি মিলিয়ে একদিনের সফরের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল অর্থের উৎস কী? এই প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে কারণ, দলের মূল কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কে চিঠি লিখে তৃণমূলের ৫৩৪ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছেন। ফলে দলীয় তহবিল যখন কার্যত অবরুদ্ধ, তখন এই বিলাসিতার খরচ কে জোগাচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে।
নেতৃত্বের বিরুদ্ধে খোলাখুলি ক্ষোভ ও সম্ভাব্য ভাঙন
এই চার্টার্ড বিমান-বিলাসের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার এক শীর্ষ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেখানে আক্রান্ত সাধারণ কর্মীদের জামিনের ন্যূনতম খরচ দল দিতে পারছে না, সেখানে এই অনাচার আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি তিনি নেত্রীকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, হয় অভিষেককে নিয়ে থাকতে, না হলে তাঁরা দল ছাড়বেন। অন্যদিকে, অতীতে কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক হেভিওয়েট নেতার মতে, ভোটের বিপর্যয়ের পর অভিষেককে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ দেওয়ার নির্দেশই দলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছিল।
একদিকে দলীয় তহবিলের অচলাবস্থা, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের গুঞ্জন এবং রাজকীয় বিমান সফর ঘিরে প্রকাশ্য বিদ্রোহ— সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক মরসুমে এক নজিরবিহীন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর দল।