মমতার দল ছাড়ছেন নেতারা! নেপথ্যের কারণ ফাঁস করলেন অধীর চৌধুরী

দলত্যাগীদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন অধীরের, তুলোধোনা করলেন তৃণমূলের দুর্নীতিকেও
নিজস্ব প্রতিবেদন: তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ এবং রাজনৈতিক দলবদল নিয়ে ফের সরব হলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক নৈতিকতা বলে একটি বিষয় আছে। যাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে মমতা ব্যানার্জির নাম ভাঙিয়ে জিতেছেন, তাঁরা এখন নিজেদের বিদ্রোহী বলে দাবি করছেন। সাহস থাকলে দলত্যাগ করে নিজেদের ক্ষমতায় জিতে দেখান, তবেই তাঁরা প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।”
দলের ভাঙন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অধীর পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “বিগত দিনে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে কংগ্রেসের বিধায়কদের ভাঙিয়ে দল ভারী করেছিল, বর্তমানের বিজেপিও সেই পথেই তৃণমূলকে ভাঙছে। এই উভয় ঘটনাই অনৈতিক এবং রাজনৈতিক নীতিবোধের চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ।”
এদিন মুর্শিদাবাদের পুরসভাগুলোর দুর্নীতি নিয়েও শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলার এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে তৃণমূল লুট ও দুর্নীতি করেনি। মুর্শিদাবাদের প্রতিটি পুরসভাতেই সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। বহরমপুর পুরসভার এক নেতার এখানে টাকা রাখার জায়গা নেই বলে কোটি কোটি টাকা দুবাইয়ে পাচার হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নামে তৃণমূল নেতারা রোজগার করছেন। অথচ, এসব দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি নেতারা আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। তারা কেবল ডিম ছুড়ে সস্তা প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করছে।”
উল্লেখ্য, বুধবার গভীর রাতে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয় যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুমতি ছাড়াই তাঁর দীর্ঘদিনের পিএসও-দের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সসম্মানে যথাযথ সুরক্ষা প্রদান করা উচিত। তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা বা টালবাহানা করা কাম্য নয়।”