১০৪ কোটি টাকার ‘দেশভক্তি’ প্রকল্পে ঝড়ের ধাক্কা, দিল্লির ৫০০ জাতীয় পতাকার রক্ষণাবেক্ষণে বড়সড় রদবদল!

২০২২ সালে দিল্লির তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ‘দেশভক্তি’ কর্মসূচি। ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ১১৫ ফুট উঁচু পতাকাদণ্ডে স্থাপন করা হয় প্রায় ৫০০টি বিশালাকার জাতীয় পতাকা। কিন্তু সাম্প্রতিককালের প্রবল গ্রীষ্মকালীন ঝড়ের দাপটে এই পতাকার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা বড়সড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু তেরঙ্গা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে সব কটি পতাকা নামিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডব্লিউডি)।
রক্ষণাবেক্ষণে নতুন রূপরেখা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে বর্তমান সরকার। পিডব্লিউডি মন্ত্রী প্রবেশ ভার্মার নির্দেশে ইতিমধ্যেই আরও টেকসই ও দুর্যোগ-সহনশীল কাপড়ের সন্ধানে প্রযুক্তিগত সমীক্ষা শুরু করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। বর্তমানে ব্যবহৃত সাধারণ পলিয়েস্টার কাপড়ের বদলে উচ্চ জিএসএম এবং উন্নত মানের সুতো দিয়ে তৈরি কাপড় ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বারবার ধোয়ার কারণে কাপড়ের বুনন দুর্বল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে, একটি পতাকা ধোয়ার সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি, বছরে চারবারের বদলে এবার থেকে দ্বিগুণ অর্থাৎ আটবার নতুন পতাকা প্রতিস্থাপন করা হবে।
এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হলে ঠিকাদার সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে সংশোধিত টেন্ডারের শর্ত এবং ধোয়া ও পরিবর্তনের নতুন সময়সূচি মেনে চলতে হবে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জাতীয় পতাকার অখণ্ডতা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইঞ্জিনিয়ারিং দল তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে, যার ওপর ভিত্তি করেই দ্রুত নতুন নিয়মে দিল্লির বুকে ফের সগৌরবে উড়বে জাতীয় পতাকা।