ভরাডুবির পরও চার্টার্ড বিমানে দিল্লি-কলকাতা সফর, কালীঘাটের বিরুদ্ধে এবার বিদ্রোহের আগুন!

ভরাডুবির পরও চার্টার্ড বিমানে দিল্লি-কলকাতা সফর, কালীঘাটের বিরুদ্ধে এবার বিদ্রোহের আগুন!

বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর দলের অন্দরে এখন তুমুল অসন্তোষ ও ক্ষোভ দলা পাকিয়ে উঠছে। দলের একটা বড় অংশ যখন প্রতিদিন পুলিশি হেনস্থা ও ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছে, ঠিক তখনই চার্টার্ড বিমানে দিল্লি-কলকাতা যাতায়াত করছেন দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু অভিষেকই নন, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিল্লিতে গিয়েছেন এবং ফিরেছেন সেই একই চার্টার্ড বিমানে। এই বিলাসবহুল সফরের বিপুল খরচের বিষয়টি সামনে আসতেই এবার কালীঘাটের বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিদ্রোহে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতাদের একাংশ।

আকাশছোঁয়া খরচের খতিয়ান ও ক্ষোভের কারণ

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিদ্রোহী সাংসদদের আবেদনের শুনানির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে ডেকেছেন। সেই শুনানিতে হাজিরা দিতে তিনি এমব্রেয়ার লিগ্যাসি ৬০০ মডেলের বিলাসবহুল চার্টার্ড বিমানে দিল্লি যাচ্ছেন। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, এই ধরনের লং রেঞ্জ চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রতি ঘণ্টার উড়ান খরচ ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা। কলকাতা থেকে দিল্লি যাতায়াতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এর সঙ্গে ওয়েটিং ফি, ক্রু মেম্বারদের খরচ, এয়ারপোর্ট হ্যান্ডেলিং, কেটারিং, পার্কিং ফি এবং ট্যাক্স যোগ করলে একদিনের সফরের ধাক্কা দাঁড়ায় প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা।

এর আগে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে এই চার্টার্ড ফ্লাইটে করেই দিল্লি গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডেরেক ও ব্রায়েনও একই বিমানে যাতায়াত করেছেন। দলের মূল কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস যখন ব্যাঙ্কে চিঠি লিখে তৃণমূলের ৫৩৪ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন, তখন এই বিপুল বিমান ভাড়ার কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে সাধারণ কর্মী ও নেতাদের মনে বড় কৌতূহল এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শীর্ষ নেতৃত্বের চরম হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই চার্টার্ড বিমান-বিলাসের তথ্য সামনে আসতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার এক শীর্ষ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি নেত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, একদিকে আক্রান্ত কর্মীদের জামিনের জন্য আইনজীবীর ন্যূনতম খরচটুকু দল দিতে পারছে না, আর অন্যদিকে অভিষেক প্রতিদিন কোটি টাকা উড়িয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরছেন। তিনি আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, হয় অভিষেককে নিয়ে থাকতে, না হলে তাঁরা দল ছাড়বেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও অসন্তোষ কমেনি।

একদা কালীঘাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক হেভিওয়েট নেতার মতে, ভোটে বিপর্যয়ের পর অভিষেককে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দিনই দলের কফিনে শেষ পেরেকটা পড়ে গিয়েছিল। একদিকে ৫৩৪ কোটির অ্যাকাউন্টে কোষাধ্যক্ষের চিঠি, আর তার ওপর অভিষেকের চার্টার্ড বিমান ঘিরে এই বিদ্রোহ— সব মিলিয়ে রাজনৈতিকভাবে এক নজিরবিহীন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে দল। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভ যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *