এল নিনোর কোপে থমকে গেছে মৌসুমি বায়ু, দেশজুড়ে ৩৮ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতিতে তীব্র উদ্বেগ!

প্রশান্ত মহাসাগরে সক্রিয় এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন যেমন দেরিতে হয়েছে, তেমনই এর গতিও অত্যন্ত ধীর। ফলে জুন মাসের শুরু থেকেই দেশজুড়ে বৃষ্টির এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের স্বাভাবিক সময়সীমা অনুযায়ী ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশের কথা থাকলেও, এবার তা ৪ জুন এসে পৌঁছায়। প্রাথমিক অগ্রগতির পর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখাটি চরম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আবহাওয়ায়।
দেশজুড়ে আবহাওয়ার দুই চরম রূপ ও তীব্র ঘাটতি ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে সমগ্র ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩৮ শতাংশ কম রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্য ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক—প্রায় ৬৭ শতাংশ। এছাড়া পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ৪২ শতাংশ এবং দক্ষিণ উপদ্বীপে ২২ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। বৃষ্টিহীনতার কারণে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা চাষিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্ষার এই আসাম গতির কারণে দেশের এক অংশে যখন তীব্র দাবদাহ, অন্য অংশে তখন বন্যার রূপ দেখা যাচ্ছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত। বিপরীতে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মেঘালয়, সিকিম ও উত্তরবঙ্গে নদীগুলোর জলস্তর বিপদসীমা পেরিয়ে ধস ও বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দুর্যোগ কেটে কি ফিরবে স্বস্তির বর্ষণ? আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, সাগরের বায়ুমণ্ডলীয় স্তরে প্রয়োজনীয় মেঘ ও বাতাসের গতির অভাবই মূলত বর্ষার এই মন্থর গতির জন্য দায়ী। তবে এই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। গত ১৭ থেকে ১৯ জুনের পর থেকে মৌসুমি বায়ু পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুনের মধ্যে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং মহারাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশে বর্ষা সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, জুনের শেষ সপ্তাহের মধ্যে উত্তর ভারতেও প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলমান দাবদাহ থেকে সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের স্বস্তি দিতে পারে।