দক্ষিণবঙ্গে আরও সক্রিয় বর্ষা, কলকাতা সহ একাধিক জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা!

দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার প্রভাব ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এর জেরে আগামী কয়েকদিন কলকাতা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টির দাপটে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও টানা বৃষ্টির জেরে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ জুন দুপুর থেকে ২০ জুন সকাল পর্যন্ত কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর পাশাপাশি ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলা যেমন ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়াতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
হাওড়া ও হুগলিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা জারি করা হয়েছে হাওড়া এবং হুগলি জেলায়। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা
বর্ষার এই অতিসক্রিয়তার কারণে শহর ও শহরতলির নিচু এলাকাগুলিতে ব্যাপক জল জমার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে তৈরি হতে পারে তীব্র যানজট এবং নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ। দুর্যোগ মোকাবিলায় আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় বা গাছের নিচে আশ্রয় নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিপদের ঝুঁকি এড়াতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ভারী বৃষ্টির সময় বাইরে না বেরোনোরই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।