নিশ্চিন্তে নেইমারহীন ব্রাজিল, হাইতি ম্যাচের আগে কাটছে না চোটের মেঘ

বিশ্বকাপের দামামা বেজে উঠলেও ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারকে মাঠের বাইরেই থাকতে হচ্ছে। পায়ের পেশির চোট পুরোপুরি সেরে না ওঠায় হাইতির বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও এই মহাতারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে সেলেসাওদের। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিত করেছে, দলের সঙ্গে ফিলাডেলফিয়ায় যাচ্ছেন না ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সতীর্থদের থেকে আলাদা হয়ে নিউ জার্সিতেই বর্তমানে তাঁর বিশেষ রিহ্যাব প্রক্রিয়া চলছে, যা বিশ্বকাপে তাঁর ফেরার অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘায়িত করল।
বাস্তবতার মুখে অ্যান্সেলোত্তির কৌশল
শতভাগ ফিট ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠনের ঘোষণা দিলেও কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি চোটাক্রান্ত নেইমারকে কেন স্কোয়াডে রাখলেন, তা নিয়ে এখন দেশের ফুটবলমহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ২৮ মে দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার নেইমারকে দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই হিসাব অনুযায়ী হাইতির বিরুদ্ধে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি সমর্থকেরা মেনে নিলেও, অপেক্ষাকৃত দুর্বল হাইতির বিরুদ্ধেও তিনি ছিটকে যাওয়ায় কোচের সিদ্ধান্ত এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলে এই চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়কে দলে টানার মাশুল দিতে হবে কোচকেই।
প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা ও সম্ভাব্য প্রভাব
টানা চোটের কবলে থাকা নেইমার ২০২৩ সালের শেষ দিকে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন। এরপর গুরুতর লিগামেন্ট চোট এবং ক্লাব ফুটবলের নিয়মিত আঘাত তাঁর ক্যারিয়ারের গতি কমিয়ে দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সান্তোসে ফিরে ৪৩ ম্যাচে ১৭ গোল করে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করলেও চোটের অভিশাপ থেকে বের হতে পারছেন না তিনি। আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তিকে ছাড়া খেলতে হওয়ায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ধার কিছুটা কমতে পারে এবং মাঝমাঠের ওপর চাপ বাড়বে। হাইতি ম্যাচ মিস করার পর, আগামী ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিই এখন নেইমারের মাঠে ফেরার সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।