ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে পাকিস্তানের ঘরে আফগান ড্রোন, গুঁড়িয়ে গেল একাধিক আইএস ঘাঁটি

দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে এবার পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে ভয়ংকর ড্রোন হামলা চালাল আফগানিস্তানের তালিবান বাহিনী। বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুখোয়া ও বালোচিস্তানের একাধিক এলাকায় এই মুহুর্মুহু ড্রোন হামলা চালানো হয়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই বিশেষ অভিযানে ওই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রোভিন্সের (ISIS-K) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে আফগান মাটিতে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার কারণ ও আত্মরক্ষার যুক্তি
আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের গুলিস্তান, শাকার আব এবং কাম্বার খেলের মতো সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত আইএস জঙ্গিরা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড়সড় হামলার ষড়যন্ত্র করছিল। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আত্মরক্ষার্থেই এই সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। এছাড়া, গত ৯ জুন রাতে আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাকতিকা অঞ্চলে পাকিস্তানি বায়ুসেনা যে আকস্মিক এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছিল, যেখানে নারী ও শিশুসহ বহু নিরীহ নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে, এই ড্রোন হামলা তারই সরাসরি প্রত্যাঘাত।
সীমান্তে মানবিক বিপর্যয় ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা এবং সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। ক্রমাগত এই সংঘাতের জেরে ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তীব্র লড়াইয়ের কারণে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে ইতিমধ্যে ৯৪,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সাথে সীমান্ত এলাকার বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় স্থান ও মানবিক সহায়তা কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোন হামলার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পুনরায় পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।