স্নেহের খেসারত! যুবরাজদের আধিপত্যেই কি ভাঙল তৃণমূল এবং শিব সেনা?

স্নেহের খেসারত! যুবরাজদের আধিপত্যেই কি ভাঙল তৃণমূল এবং শিব সেনা?

জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিব সেনার ভয়াবহ ভাঙন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুই ভিন্ন রাজ্যের দলের পতনের এই চিত্রনাট্য প্রায় একই। উভয় ক্ষেত্রেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্ধস্নেহ এবং নতুন প্রজন্মের হাতে আসাময়ে দলের রাশ তুলে দেওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। দলের পুরনো ও বর্ষীয়ান নেতারা মনে করছেন, যুবনেতাদের দাপটে তাঁরা উপযুক্ত সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং সেই ক্ষোভ থেকেই দলে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে।

উত্থানের নেপথ্যে মিল ও প্রবীণদের ক্ষোভ

তৃণমূলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিব সেনায় আদিত্য ঠাকরের উত্থানের পথটি কার্যত সমান্তরাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তৃণমূলে যেমন অভিষেকের দ্রুত রাজনৈতিক উত্তরণ ঘটে এবং দলের অঘোষিত ‘নম্বর টু’ হয়ে ওঠেন, ঠিক তেমনি উদ্ধব ঠাকরের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রেখেই বড় পদ পেয়ে যান আদিত্য। ধীরে ধীরে দলের প্রবীণ ও ভরসাযোগ্য নেতাদের কোণঠাসা করে এই দুই ‘যুবরাজ’ নিজেদের অনুগামীদের নিয়ে সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করেন। উভয় নেতার বিরুদ্ধেই অভিযোগ, তাঁরা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের বদলে কর্পোরেট ধাঁচে দল পরিচালনা করতে চেয়েছেন, যা দলে প্রভু-ভৃত্যের বিভাজন তৈরি করেছে।

পতনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূল এবং শিব সেনার এই ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে শীর্ষ যুবনেতৃত্বের বিচ্ছিন্নতা এবং কথিত ঔদ্ধত্য। প্রবীণদের ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে প্রথমে একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বে শিব সেনা আড়াআড়িভাবে ভেঙে যায় এবং উদ্ধব শিবির ক্ষমতা হারায়। অবিকল সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বাংলার রাজনীতিতেও। তৃণমূলের বহু প্রবীণ নেতা ও সাংসদ ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন এবং প্রতিদিন দলের কোনো না কোনো স্তরে পদত্যাগের হিড়িক চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা উদ্ধব ঠাকরে উভয় নেতাই দলের স্বার্থের চেয়ে উত্তরাধিকারীদের প্রতি স্নেহকে বড় করে দেখায় আজ তাঁদের সাজানো সংগঠন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী দিনে এই দুই রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বই গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *