মেসিকে জড়িয়ে ছবি তোলা অদিতির বাড়িতে সিআইডি! অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন কালীঘাটের ২৯ডি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সম্প্রতি হানা দিয়েছে সিআইডি। তদন্তকারী দলের রাডারে থাকা এই ঠিকানার বাসিন্দা অদিতি গায়েনের খোঁজে মহিলা আধিকারিক-সহ প্রায় ৮-১০ জনের একটি দল সেখানে পৌঁছয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা এবং তাঁর বাড়িতে ধারাবাহিক তল্লাশির মধ্যেই খাস কালীঘাটে এই সিআইডি হানা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সিআইডি হানার কারণ ও প্রেক্ষাপট
মূলত নির্বাচনী প্রচার পর্বে ডিজে বাজানো নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের তদন্তে নেমেছে সিআইডি। এই মামলায় ইতিমধ্যেই অভিষেককে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া বিধানসভায় সই জাল কাণ্ড নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে। এই মামলাগুলির সূত্র ধরেই অদিতির বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। অদিতি মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং অনলাইন প্রচারের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় কর্মসূচির ডিজিটাল দিকগুলো তিনিই পরিচালনা করেন। তদন্তকারী আধিকারিকরা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং প্রচার পর্বে অভিষেকের হয়ে করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। এই তদন্তের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের ওপর আইনি চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কে এই অদিতি গায়েন?
পেশাদারি পরিচয়ের বাইরেও অদিতি গায়েনের একটি বিশেষ পারিবারিক পরিচয় রয়েছে। তিনি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বোন রীনা গায়েনের কন্যা। সেই সূত্রে অদিতি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপন পিসতুতো বোন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বোনঝি। রাজনৈতিক মহলের বাইরে তিনি খুব একটা পরিচিত না হলেও, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একটি ইভেন্টে লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে তিনি এর আগে বেশ নজর কেড়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার পাশাপাশি শাসকদলের অন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল রণকৌশল তাঁর হাত দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়।