মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার! কেন্দ্রকে নির্লজ্জ বলে তীব্র তোপ মহুয়ার

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে (পিএসও) হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল শোরগোল পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, বুধবার রাতে কালীঘাটের বাসভবন থেকে তাঁর নিরাপত্তারক্ষী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেত্রীর জীবনকে এভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তুলেছে তৃণমূল।
ভাগবতের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বনাম মমতার ঝুঁকি
এই পদক্ষেপকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে ডেরেক দাবি করেন, রাতের অন্ধকারে মমতার বাড়ির বাইরে কোনও ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ছিল না। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মহুয়া মৈত্র কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘নির্লজ্জ’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যেখানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা এবং কমান্ডো ঘেরাটোপে রাখা হচ্ছে, সেখানে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ও সাতবারের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন সমীকরণ
এই ঘটনা কেন্দ্র ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও এক ধাপ উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একজন শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেত্রীর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নিছক প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এর মাধ্যমে বিরোধী স্বরকে চাপে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দেওয়ায় জল্পনা আরও তীব্র হচ্ছে। আগামী দিনে এই নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।