টানা বৃষ্টিতে ভাসছে উত্তরবঙ্গ, ৪ দিনের লাল সতর্কতায় জারি

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে লাগাতার বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। দক্ষিণবঙ্গে মেঘলা আকাশ থাকলেও বৃষ্টির দেখা নেই, অথচ ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে উত্তরের জেলাগুলোতে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় দৈনিক ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা এই অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ধস ও হড়পা বানের জোড়া বিপর্যয়
টানা অতিবৃষ্টির ফলে সিকিম, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে ধস নামার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমেধ্যেই ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, পাশাপাশি দুধিয়া ব্রিজের অস্থায়ী ডাইভার্সনটির একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পাহাড়ি নদীগুলোতে জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আবহাওয়া কর্তারা হড়পা বানের (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাশাপাশি ভুটানের পাহাড়ি ঢলের জল এবং স্থানীয় বৃষ্টির কারণে ডুয়ার্সের নদীগুলোতেও মারাত্মক জলস্ফীতির সতর্কতা রয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও পর্যটকদের উদ্বেগ
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে উত্তরবঙ্গে ঘুরতে আসা বহু পর্যটক চরম সমস্যায় পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় অনেকেই আটকে পড়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সহায়তার জন্য জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ত দফতরের মন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার উত্তরবঙ্গের জেলাশাসক ও গণপূর্ত দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করা এবং ত্রাণ কাজের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।