উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পাশে সিপিআইএম, হাবড়ার পর এবার কোন পথে বামেরা?

রেলের জমিতে হকার উচ্ছেদের জেরে কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিপিআইএম। করোনা মহামারীর পর আবারও দলটির পক্ষ থেকে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘কমিউনিটি কিচেন’ বা সামাজিক রান্নাঘর। হঠাৎ করে উচ্ছেদ হওয়া হকার ও তাদের পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতেই এই মানবিক প্রয়াস শুরু হয়েছে। হাবড়ার পাশাপাশি দমদমেও এই ধরণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন সিপিআইএম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়।
উচ্ছেদের কারণ ও হকারদের দুরবস্থা
নেত্রীর অভিযোগ, বহু দশক ধরে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা বাজার ও কলোনিগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন ছাড়াই হঠাৎ উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কোথাও মাত্র ৭ থেকে ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে বুলডোজার, জেসিবি, জলকামান ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপের কারণে হাজার হাজার হকার পরিবার রাতারাতি উপার্জনের পথ হারিয়ে চরম আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছে। বাম নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, হকাররা ভিখারি নন; তাই রেল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে উচ্ছেদ বন্ধ করে তাদের বৈধ লাইসেন্স ও বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
আইনি লড়াই ও আগামী দিনের রণকৌশল
রেল কর্তৃপক্ষের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিপিআইএম ইতিমধ্যেই শিয়ালদা ও হাওড়ার ডিআরএম এবং জেনারেল ম্যানেজারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদ বন্ধ না হওয়ায় দলটি এখন পুরোপুরি আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছে। ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বেশ কয়েকটি স্টেশনে উচ্ছেদের ওপর স্থগিতাদেশ আনা সম্ভব হয়েছে। দমদমসহ অন্যান্য এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য আইনি উপায়ে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হচ্ছে। এছাড়া মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছু কিছু এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্বও নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটির স্থানীয় সংগঠন।