লেবাননে ইজরায়েলি হামলার জের, শেষ মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক বাতিল আমেরিকার!

লেবাননে ইজরায়েলি হামলার জের, শেষ মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক বাতিল আমেরিকার!

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেল আমেরিকা ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হলেও, শেষ মুহূর্তে সুইৎজারল্যান্ডের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছে মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আপাতত সুইৎজারল্যান্ডে যাচ্ছেন না এবং পরবর্তী কোনো সময়ে ইরানের সঙ্গে এই আলোচনায় বসা হবে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নেপথ্যে সরাসরি ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে দায়ী করা হচ্ছে।

শর্ত ভেঙে লেবাননে ইজরায়েলি হানা

দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটাতে চলতি সপ্তাহে ১৪টি শর্ত সম্বলিত একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, আমেরিকা বা ইজরায়েল কোনোভাবেই লেবাননে সামরিক অভিযান চালাতে পারবে না। কিন্তু সেই শর্ত উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার রাতভর দক্ষিণ লেবাননের একাধিক ঠিকানায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইজরায়েলি বিমানবাহিনী, যাতে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়। ইজরায়েলের দাবি, উত্তর ইজরায়েলে হেজবোল্লার হামলায় ৪ জন ইজরায়েলি সেনার মৃত্যুর পালটা হিসেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এই অভিযান জারি থাকবে।

সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা

ইজরায়েলের এই আগ্রাসী মনোভাবের কারণে আলোচনার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়া বড় সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না এবং দ্রুতই নতুন দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে লেবানন ও বেইরুটে ইজরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় এই ১৪ দফার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *