‘সব বানিয়ে বলছেন’, ছবি তোলার বায়না নিয়ে ট্রাম্প ও মেলোনির প্রকাশ্য সংঘাত

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে দুই শীর্ষ নেতার পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন করে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে এই বাগযুদ্ধ শুরু হয়। ইটালির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য রীতিমতো বায়না ধরেছিলেন। ট্রাম্পের এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও ‘বানানো’ বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী।
কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন ও ট্রাম্পের দাবি
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার আগ্রাসী নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ইটালির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার পক্ষে অবস্থান নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ, যার মধ্যে ইটালিও অন্যতম। এই শীতল সম্পর্কের আবহে ট্রাম্পের দাবি নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরে খুশি হয়েছিলেন এবং ছবি তোলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। মেলোনির যাতে খারাপ না লাগে, কেবল সেই কারণেই তিনি ছবি তুলতে রাজি হয়েছিলেন বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মেলোনির তীব্র প্রত্যাখ্যান ও সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কড়া জবাব দিয়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। তিনি স্পষ্ট জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইটালি কখনও কারও কাছে কিছু ভিক্ষা করে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন নিজের বন্ধুদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন যে, আমেরিকার শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এমন দৃঢ়তা দেখাতে পারেন না।
এই ঘটনার প্রভাব ইতিমধ্যেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে পড়তে শুরু করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ইটালির উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর আসন্ন মার্কিন সফর বাতিল করেছেন। একসময়ের বন্ধুভাবাপন্ন এই দুই নেতার সম্পর্ক পোপ লিও-র বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মন্তব্য এবং ইরান যুদ্ধের পর থেকেই তলানিতে ঠেকেছিল, যা এই সাম্প্রতিক ঘটনার পর আরও বড় সংকটের মুখে পড়ল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।