৪৪০ কোটি টাকা আটকে রেখে তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ!

৪৪০ কোটি টাকা আটকে রেখে তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ!

নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার তীব্র আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ, যেখানে সব মিলিয়ে জমা রয়েছে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলে চিঠি পাঠিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ তৃণমূল বিধায়কের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ও ব্যাঙ্ক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। আপাতত ওই তিন অ্যাকাউন্টে সমস্ত ধরনের লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আইনি টানাপোড়েন

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের কোন্দল এবং দলের কোষাধ্যক্ষ পদের রদবদলকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন আগে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে চিঠি লিখেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তাঁর এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। এই প্রেক্ষাপটে ‘ঋতপন্থী’ ১০ বিধায়ক বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত আর্জি জানালে সাইবার সেল তদন্ত শুরু করে। অন্যদিকে, তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের খবরটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গত ৫ জুন শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের কথা ব্যাঙ্ককে জানানো হয়েছিল। ফলে অরূপ বিশ্বাসের দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং দল এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। নির্বাচনে ভরাডুবির পর এমনিতেই বিধানসভায় পরিষদীয় দল ভেঙে গিয়েছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে সংসদীয় দল। দলের প্রতীক ধরে রাখা এবং দল বাঁচানোর তাগিদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী সাংসদদের পদ বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন, ঠিক তখনই এই আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দলের কোমর ভেঙে দিল। একের পর এক পুরনিগম ও পুরসভা হাতছাড়া হওয়ার পর ৪৪০ কোটি টাকা আটকে যাওয়ায় দলের দৈনন্দিন পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যাপক ব্যাহত হতে পারে। বিকল্প হিসেবে সাংসদদের নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা নিয়ে আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা ভাবা হলেও, আইনি লড়াইয়ে জয় না এলে দল পরিচালনা করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *