‘৬০ দিন সময়, নইলে ফল ভুগতে হবে!’ জেনেভা বৈঠকের আগেই ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটন/তেহরান: প্রাথমিক চুক্তিতে সই হলেও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সংঘাতের মেঘ কাটছে না। হাতে সময় মাত্র ৬০ দিন। এর মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতায় আসতে হবে তেহরানকে, নইলে এর চরম ফল ভুগতে হবে! সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার আগেই এবার ইরানকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি ফ্রান্সে জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলনে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি বা মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রঁর উপস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। কথা ছিল, এই মউ স্বাক্ষরের পর আগামী ৬০ দিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা চলবে, যেখানে পরমাণু কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি চূড়ান্ত হবে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের পালটা তোপ:
চুক্তি স্বাক্ষরের পরের দিনই পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্দিষ্ট ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে আমেরিকা এমন কিছু পদক্ষেপ নেবে, যা ইরানের জন্য মোটেই সুখকর হবে না।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি নিয়ে পালটা তোপ দেগেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। তাঁর দাবি, এই চুক্তির জন্য ট্রাম্প ‘মরিয়া’ ও ‘হতাশাগ্রস্ত’ হয়েই এমন চাপ তৈরির কৌশল নিচ্ছেন।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন জটিলতা:
প্রাথমিক চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা শোনা গেলেও, তা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর অভিযোগ, আমেরিকা চুক্তির শর্ত মানছে না এবং লেবাননে ইজরায়েলি হামলাও অব্যাহত রয়েছে। শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধই থাকবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান।
এই প্রবল টানাপোড়েনের মাঝেই জেনেভায় আলোচনার প্রথম ধাপের জন্য রওনা দিচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী সইদ খাতিবজাদে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা চুক্তির সম্মান রাখলে এবং ইজরায়েল শর্ত মেনে চললে তবেই তেহরান পরবর্তী আলোচনায় বসবে। সব মিলিয়ে আগামী ৬০ দিন আন্তর্জাতিক মহলের নজর যে আমেরিকা-ইরান কূটনীতির দিকেই থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।