১৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন সোহম, আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল আদালত

অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা ১৫ লক্ষ টাকার প্রতারণার মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে বালুরঘাট জেলা আদালত। ২০১৮ সালে এক প্রযোজকের কাছ থেকে সিনেমার জন্য অগ্রিম টাকা নিয়েও কাজ না করা এবং পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বালুরঘাট থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছিল। ঘটনার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মানস বসু এই রায় প্রদান করেন, যা এই মুহূর্তে টলিউড অভিনেতা সোহমের আইনি সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলল। অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার অভিযোগকারী বালুরঘাটের বাসিন্দা তথা প্রযোজক তরুণ দাস।
সিনেমার নামে অগ্রিম ও হুমকির অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে, যখন প্রযোজক তরুণ দাস একটি বাণিজ্যিক বাংলা ছবি তৈরির পরিকল্পনা করেন এবং ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ছবির সাম্মানিক বাবদ প্রাথমিক কথাবার্তার পর অভিনেতাকে ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর থেকেই অভিনেতা বারবার শ্যুটিংয়ের তারিখ পিছাতে থাকেন বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে ২০২০ সালে করোনা মহামারী ও লকডাউনের সময়ে প্রযোজকের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়লে তিনি ছবির কাজ বন্ধ রেখে সোহমের কাছে দেওয়া অগ্রিম টাকা ফেরত চান। অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়ার পর থেকেই প্রযোজককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু হয়। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অবশেষে তরুণ দাস বালুরঘাট থানায় অভিনেতার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হুমকির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আইনি সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
বুধবার বালুরঘাট জেলা আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত সোহমের আগাম জামিনের আবেদনটি খারিজ করে দেয়। অভিনেতার আইনজীবী শেখর দাশগুপ্ত আদালতে দাবি করেন, টাকা নেওয়া হলেও সিনেমার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং তাঁর মক্কেল টাকা বা কাজের জন্য কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। তবে আদালতের এই কঠোর রায়ের ফলে অভিনেতার গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে, যা তাঁর রাজনৈতিক ও অভিনয় জীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগেও ২০২৪ সালে নিউটাউনের একটি রেস্তোরাঁ মালিককে মারধরের ঘটনা ও হোটেল শ্যুটিংয়ে হুজ্জতি সহ একাধিক বিতর্কে সোহম চক্রবর্তীর নাম জড়িয়েছিল। নতুন করে এই আর্থিক প্রতারণার মামলা এবং জামিন নাকচের ঘটনা বিনোদন জগৎ ও রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভাবমূর্তিকে আরও বড় সংকটের মুখে দাঁড় করাল।