মোদীর মেগা যোগ ইভেন্টে বাজিমাত কলকাতার, বিপুল আয়ের সুযোগ ইনফ্লুয়েন্সারদের!

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে কলকাতায় আয়োজিত হতে চলেছে এক বৃহৎ কর্মসূচি। তবে এবারের আয়োজন শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সচেতনতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে আটকে নেই। এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে শহরের শতাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য খুলে গেছে প্রচার ও আয়ের এক নতুন দরজা।
ডিজিটাল দুনিয়ায় কর্মসংস্থানের নতুন জোয়ার
কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের সহযোগিতায় আয়োজিত তিন দিনের এই মেগা ইভেন্ট কভার করার জন্য কলকাতার ১০০-রও বেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মূলত ফিটনেস, ওয়েলনেস, ভ্রমণ ও লাইফস্টাইল নিয়ে কাজ করা ইনফ্লুয়েন্সাররাই এই উদ্যোগে অগ্রাধিকার পেয়েছেন। এতদিন কলকাতার ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের বড় অভিযোগ ছিল যে, দিল্লি বা মুম্বইয়ের তুলনায় তাঁদের কাজের সুযোগ খুবই কম। কিন্তু এবারের এই জাতীয় স্তরের প্রচারাভিযানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তাঁদের সেই আক্ষেপ অনেকাংশেই দূর করেছে। একটি নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রচার প্রক্রিয়ায় কড়া পুলিশি যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং ক্রিয়েটরদের পারিশ্রমিকও দেওয়া হচ্ছে। যদিও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বাদ পড়া একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষও দেখা গিয়েছে।
গিনেস রেকর্ডের প্রস্তুতি ও মূল আকর্ষণ
যোগ দিবসের এই তিন দিনের কর্মসূচিতে থাকছে একাধিক চমক। শুক্রবার শহরের ১১টি স্থানে ‘দৌড় সে ধ্যান’ শীর্ষক যোগ রানের পর শনিবার প্রিন্সেপ ঘাট ও মিলেনিয়াম পার্কে ৩,০০০ ড্রোন নিয়ে এক বিশাল শোয়ের আয়োজন করা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠানটি হবে রবিবার রেড রোডে, যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকবেন এবং ভাষণ দেবেন। এছাড়া গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে ৫০০টি নৌকায় একযোগে যোগব্যায়াম প্রদর্শনের প্রস্তুতিও তুঙ্গে, যা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই গিনেস প্রতিনিধিরা শহরে উপস্থিত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বৃহৎ আয়োজনে স্থানীয় ইনফ্লুয়েন্সারদের যুক্ত করার কৌশল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে একদিকে যেমন ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে যোগাভ্যাসের বার্তা তৃণমূল স্তরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনই বাংলার আঞ্চলিক কনটেন্ট নির্মাতারাও জাতীয় স্তরে নিজেদের তুলে ধরার একটি বিশাল মঞ্চ পাচ্ছেন। এটি সামগ্রিকভাবে কলকাতার ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।