প্রথম বর্ষাতেই ডুবল তিলোত্তমা, স্বস্তির বৃষ্টির মাঝেই চরম দুর্ভোগ!

টানা ভ্যাপসা গরমের পর বর্ষার প্রথম ভারী বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরলেও, কার্যত নাকাল হতে হল কলকাতাবাসীকে। শুক্রবারের প্রবল বর্ষণে এক ধাক্কায় শহরের তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রিতে নেমে আসায় আবহাওয়া মনোরম হলেও, রাস্তাঘাটে জল জমে তীব্র যানজট ও জনজীবনে স্থবিরতা তৈরি হয়।
জলমগ্ন হাসপাতাল থেকে রাজপথ
বৃষ্টির জেরে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্রই ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়। ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্ক, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে সল্টলেকের করুণাময়ী ও সিজিও কমপ্লেক্স এলাকা ব্যাপকভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে। দিনের বেলায় হাসপাতালের একাংশে জল ঢুকে যাওয়ায় রোগীদের স্ট্রেচার ঠেলে জল পেরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন পরিজনেরা, যা শহরের পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ভিআইপি রোডের তেঘরিয়া ও হালদিরাম মোড় এবং রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে হাঁটুজল জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে বহু গাড়ি।
নিকাশি সমস্যা ও দুর্ভোগের নেপথ্য কারণ
আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ে আলিপুরে ৫১, দমদমে ৬৪ এবং উলুবেড়িয়ায় ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশের কারণেই এই প্রবল বর্ষণ। তবে এই ব্যাপক জল জমার পেছনে মূলত পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজকেই দায়ী করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার দাবি, নর্দার্ন পার্ক ও আমহার্স্ট স্ট্রিটে নতুন নিকাশি প্রকল্পের কাজের জন্যই জল নামতে সাময়িক দেরি হয়েছে। অন্যদিকে বিধাননগর পুরনিগমের মতে, নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের কাজের জেরে ভিআইপি রোডের কিছু অংশের নিকাশি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতেই এই বিপত্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুরসভা ৪০টিরও বেশি সাকশন পাম্প নামিয়ে জল সরানোর ব্যবস্থা করে। আগামী কয়েকদিন এমন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় জনজীবনে এই মিশ্র প্রভাব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।