অফিসে এআই ব্যবহার না করলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে তিন গুণ!

বর্তমান যুগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর। দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে চাইলে এআই ব্যবহারের দক্ষতা এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং তা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে যারা এআই টুল ব্যবহার করছেন না, তাদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়মিত ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। গ্যালাপের একটি নতুন প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যা বিশ্বজুড়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সমীক্ষার পরিসংখ্যান ও এআই বিভাজন
২৩ হাজারেরও বেশি কর্মরত মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে যে, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বা টেকনোলজি সেক্টরে যেসব কর্মী মাসে অন্তত একবার এআই টুল ব্যবহার করেন, তাদের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা মাত্র ৬ শতাংশ। বিপরীত দিকে, যারা প্রযুক্তির এই আধুনিক মাধ্যমটি একেবারেই ব্যবহার করেন না বা খুব কম করেন, তাদের ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর ঝুঁকি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ শতাংশে। গ্যালাপের এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু আইটি সেক্টরই নয়, অন্যান্য সাধারণ শিল্পক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা কর্মীরা চাকরি সুরক্ষার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন। মূলত কো ম্পা নিগুলো এখন নিয়োগের পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রার্থীর এআই দক্ষতার ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে।
ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
প্রতিবেদনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো চাকরি হারানোর কারণ নিয়ে কর্মী এবং নিয়োগকর্তাদের মধ্যকার দৃষ্টিভঙ্গির অমিল। চাকরিচ্যুত কর্মীদের মাত্র ১ শতাংশ মনে করেন যে এআই সরাসরি তাদের ছাঁটাইয়ের জন্য দায়ী; অধিকাংশ কর্মীই এর পেছনে কো ম্পা নির খরচ সংকোচন বা মন্দা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন। তবে কর্পোরেট খাতের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস ইনকরপোরেটেড’-এর তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে কো ম্পা নিগুলোর মোট ছাঁটাইয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের পেছনে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে কাজ করেছে এআই দক্ষতার অভাব। এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর কর্মক্ষেত্রে একটি নতুন বিভাজন তৈরি করছে, যেখানে ডিগ্রির চেয়ে বাস্তবমুখী প্রযুক্তিগত যোগ্যতাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।