আকাশে বায়ুসেনার কপ্টার আর রাস্তায় প্যারামিলিটারি, নিট পরীক্ষা ঘিরে দেশজুড়ে নজিরবিহীন তৎপরতা

মে মাসের নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বাধ্য হয়ে সেই পরীক্ষা বাতিল করে সরকার। এই বড় বিপর্যয়ের পর আগামী ২১ জুন দেশজুড়ে পুনরায় নিট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর এই পরীক্ষা যাতে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও ত্রুটিহীনভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেশজুড়ে এক বিশাল মক ড্রিল বা মহড়ার আয়োজন করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। প্রশ্নপত্র ডেলিভারি থেকে শুরু করে পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র সংগ্রহ—প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে ঝালিয়ে নিতেই এই নজিরবিহীন তোড়জোড়।
আকাশ ও স্থলপথে কড়া প্রহরা
বিগত দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তার কোনো খামতি রাখছে না প্রশাসন। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবার সরাসরি নামানো হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনাকে। বায়ুসেনার বিমান ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। স্থলপথেও থাকছে কড়া নজরদারি। প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো এবং পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার প্যারামিলিটারি বা আধাসামরিক বাহিনীকে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি
এবারের নিট পরীক্ষার জন্য দেশের ৫৫১টি শহর এবং ১৪টি আন্তর্জাতিক লোকেশন মিলিয়ে মোট ৫,৫০০টি পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাই করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোকে ‘হাই-সিকিউরিটি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ কর্মী সামগ্রিক সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকছেন।
প্রযুক্তিগত জালিয়াতি রুখতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বসানো হয়েছে ১৫ হাজার সিগন্যাল জ্যামার। এছাড়া পুরো প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি নজর রাখতে দেড় লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরাসরি এনটিএ-র প্রধান কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে।
বড় পরীক্ষা এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিধা
বাতিল হওয়া পরীক্ষার পর এবার মোট ২২.৮ লক্ষ পরীক্ষার্থী পুনরায় এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে চলেছেন। ইতিমধ্যে ১৮.৫ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ পড়ুয়া নিজেদের পরীক্ষাকেন্দ্র বা শহর পরিবর্তন করেছেন। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও রাজস্থানসহ দেশের প্রধান রাজ্যগুলোতে বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থারও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য একটাই—যাতে আর কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করতে না পারে।