চলন্ত গাড়ির পিছনে ঝুলছেন টোলকর্মী, ১২ কিলোমিটার বেপরোয়া গতিতে ছুটল গাড়ি!

চলন্ত গাড়ির পিছনে ঝুলছেন টোলকর্মী, ১২ কিলোমিটার বেপরোয়া গতিতে ছুটল গাড়ি!

উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টোল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামান্য বচসার জেরে এক টোলকর্মীকে গাড়ির পিছনে ঝুলিয়ে রেখেই প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ বেপরোয়া গতিতে ছুটে গেল একটি ছোট গাড়ি। আসামের নম্বর প্লেট লাগানো ওই গাড়িটির এমন বিপজ্জনক কাণ্ড ক্যামেরাবন্দি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

টোল দেওয়া নিয়ে বচসা ও রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার ঘোষপুকুর টোল প্লাজায়। সেখানে একটি গাড়ির চালকের সঙ্গে টোল কর্মীদের টোল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আচমকাই বিবাদ বাঁধে। বচসা চলাকালীনই এক টোলকর্মী গাড়িটির পিছনে আটকে যান এবং চালক তাঁকে ওই অবস্থাতেই টেনে নিয়ে তীব্র গতিতে পালাতে শুরু করে। সেই সময় ইসলামপুরের বাসিন্দা মহম্মদ বাবলু এক রোগীকে নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে যাচ্ছিলেন। টোল প্লাজা থেকে কিছুটা দূরে গাড়িটির পিছনে এক ব্যক্তিকে বিপজ্জনকভাবে ঝুলতে দেখে তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। বাবলু তৎক্ষণাৎ নিজের গাড়ি নিয়ে ওই ঘাতক গাড়িটির পিছু নেন।

চলন্ত অবস্থায় গাড়িটি একের পর এক লরিকে ওভারটেক করে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করছিল। প্রায় ১২ কিলোমিটার রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া করার পর, মহম্মদ বাবলু ও অন্যান্য পথচারীদের তৎপরতায় শেষমেশ গাড়িটিকে আটকানো সম্ভব হয়। গাড়ির পিছনে ঝুলতে থাকা টোলকর্মীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সামান্য টোল ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া বা টোল দেওয়া নিয়ে ক্ষণিকের উত্তেজনাই এই চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মূল কারণ। জাতীয় সড়কে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার খামতি এবং চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্য করার চরম মানসিকতা এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় সামনে এসেছে। এর ফলে সড়কে চলাচলকারী অন্যান্য সাধারণ মানুষের জীবনও বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।

ঘটনার পরই খবর দেওয়া হয় জলপাইগুড়ি থানার পুলিশকে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটির চালকসহ অবরুদ্ধ যাত্রীদের আটক করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *