নৌ-শক্তিতে নয়া যুগ, আত্মনির্ভরতার বার্তা নিয়ে কলকাতায় তিন যুদ্ধজাহাজ কমিশন করবেন প্রধানমন্ত্রী!

ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। আত্মনির্ভর ভারতের রূপকল্পকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে কলকাতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীন ভারতের নৌ-শিল্পের ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিন রণতরী
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে যে তিনটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে সেগুলি হল— আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক। প্রতিটি নৌযান কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপইয়ার্ডে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা কেন্দ্র সরকার গ্রহণ করেছে, এই যুদ্ধজাহাজগুলির সফল নির্মাণ তারই বাস্তব প্রতিফলন। এর ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি ও দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষক কল্যাণে জোর
যুদ্ধজাহাজ কমিশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনের বাংলা সফর ঘিরে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। ২০ জুন হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি কৃষি, রেল ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রকল্পের সূচনা করবেন। কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রায় ৯.৪৪ কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পিএম-কিষান যোজনার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ডিজিটাল কৃষি মিশন, হাওড়ায় ৫৯০ কোটি টাকার রেল প্রকল্প এবং গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় নির্মিত ৪৯টি নতুন রাস্তার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের দ্বিতীয় দিন, ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজগুলি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেবেন।